"My personal take on architecture. Exploring how we live, breathe, and connect within the walls we build."
How I see it
architecture 101
1.2 Definition
1.9
আপনি কি কখনো খেয়াল করে দেখেছেন বৃষ্টির ফোঁটা? জানালার কাচে?… একটা ফোঁটা পড়ে - তারপর আরেকটা - তারপর আরেকটা …এলোমেলো, কোনো নিয়ম নেই, কোনো পরিকল্পনা নেই।কিন্তু একটু পরেই সেই ফোঁটাগুলো একটা নকশা তৈরি করে। ছোট ছোট নদীর মতো।একটার সাথে আরেকটা মিলছে — একটা পথ তৈরি হচ্ছে।কেউ সেই পথ এঁকে দেয়নি। তবু পথ আছে। এটাকে বলে — Randomness থেকে Pattern।এই ঘটনাটা পৃথিবীতে সবখানে হচ্ছে।পাখির ঝাঁক, মাছের দল, পিঁপড়ার সারি, মানুষের ভিড়।কেউ পরিকল্পনা করেনি, কিন্তু নকশা আছে।
এই একই ঘটনা শহরেও হয়। কিন্তু কীভাবে?(সামনে ধীরে ধীরে একটু একটু করে Math আর Programming এর দিকে যাবো - ভয় পাবেন না। সহজ।)ধরুন একটা সম্পূর্ণ random প্রক্রিয়া। কোনো নিয়ম নেই। সব এলোমেলো।এই random প্রক্রিয়ায় একটু restriction দিন। মানে একটা সামান্য নিয়ম যোগ করুন।যেমন_"প্রতিটা বাড়ির সামনে একটু খোলা জায়গা রাখতে হবে।"ব্যাস শুধু এই একটাই নিয়ম। এই একটা নিয়ম থেকে পুরো একটা settlement pattern তৈরি হয়ে যায়।এগুলো ছোট। এগুলো সহজ — কিন্তু এগুলো থেকে বিশাল জটিল শহর তৈরি হয়।
Arrival মুভিটা দেখেছেন?সেই সিনেমায় ভিনগ্রহীদের ভাষা সম্পূর্ণ আলাদা।তারা একটা বৃত্তাকার ভাষায় কথা বলে। শুরু নেই - শেষ নেই - সব একসাথে।Linguist Louise সেই ভাষা শিখতে গিয়ে বুঝল_এই ভাষায় ভাবলে সময়ের ধারণাটাই বদলে যায়।ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম না। ভাষা চিন্তার গঠন বদলে দেয়। Space বা স্থানের ক্ষেত্রেও তাই_স্থানের ভাষা শুধু জায়গাই দেয় না — মানুষের আচরণ গঠন করে।এই ভাষাটাও ছোট ছোট নিয়ম থেকেই তৈরি।
________________________________________বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো settlement pattern-গুলো দেখুন।সুন্দরবনের পাশের গ্রামগুলো। দুটো নিয়ম – শুধু মাত্র দুটো_১) প্রতিটা বাড়ি মাটি থেকে একটু উঁচুতে।২) প্রতিটা বাড়ি সামনের নদীর দিকে একটু খোলা।কিন্তু এই দুটো নিয়ম থেকে পুরো গ্রামের pattern তৈরি।বন্যায় টিকে থাকে। নদীর সাথে সংযুক্ত। মানুষ মিলতে পারে।কোনো engineer ডিজাইন করেননি। না কোনো architect।শুধু দুটো সহজ নিয়ম — আর সেখান থেকেই তৈরি হাজার বছরের জ্ঞান।
এবার আধুনিক শহর পরিকল্পনায় আসি।আধুনিক পরিকল্পনাকারীরা উল্টো কাজ করেন।তারা আগে পুরো pattern ঠিক করেন।"এখানে residential। ওখানে commercial। এই রাস্তা এত চওড়া। ওই রাস্তা ওত চওড়া।"সব ঠিক করা। সব নির্দিষ্ট। এতে কী হয়? এতে Pattern সুন্দর হয়। কিন্তু তাতে জীবন থাকে না।কারণ “জীবন্ততা(!)” আসে কিছু ছোট ছোট নিয়ম থেকে -উপর থেকে জোর করে চাপানো pattern থেকে না।
________________________________________DAP - রাজুকের Detailed Area Plan। হাজার হাজার পাতা। শত শত নিয়ম। কোটি কোটি টাকা।সেই Plan অনুযায়ী কতটুকু বানানো হয়েছে?(জিজ্ঞেস করবেন না। উত্তরটা দুঃখজনক।)কিন্তু পুরান ঢাকার গলিগুলো কোনো Plan ছাড়াই হাজার বছর ধরে কাজ করছে।Plan করা শহর ব্যর্থ। Plan ছাড়া শহর সফল।এই irony টা RAJUK-এর কোনো document-এ পাবেন না।
ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণ_ “Venice”পানির উপর শহর। কীভাবে বানানো হয়েছে?কোনো masterplan ছিল না।শুধু একটা নিয়ম ছিল —"পানির উপর কাঠের খুঁটি বসাও - তার উপর পাথর - তার উপর বাড়ি।"এই একটাই নিয়ম। সেই নিয়ম থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শহর তৈরি হয়েছে।UNESCO World Heritage। প্রতি বছর কোটি পর্যটক।একটা সহজ নিয়ম। হাজার বছরের সৌন্দর্য।আধুনিক কোনো শহর এত সহজ নিয়মে বানানো না।তাই এত সুন্দরও না।
আমি একজন স্থপতি হিসেবে বিশ্বাস করি —একটা সহজ কিন্তু সঠিক নিয়ম, একটা জটিল কিন্তু ভুল masterplan-এর চেয়ে হাজারগুণ শক্তিশালী।সবচেয়ে ভালো ডিজাইন — জটিল কিছু করা না।সবচেয়ে ভালো ডিজাইন — সহজ কিছু সঠিক নিয়মের সমন্বয়।
আপনি যখন কারো হাত মেলান — সেটা কি শুধু একটা Gesture? না_হাত মেলানো মানে — "আরেহ দোস্ত - কি খবর?"হাত মেলানো মানে — "আমি Friendly"/ "আমি Trustworthy"/…একটা সিম্পল কাজ। কিন্তু হাজারটা অর্থ।স্থাপত্যেও তাই_- একটা বিশাল দরজা মানে — "এখানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আছে।"- একটা নিচু ছাদ মানে — "এখানে একটু মাথা নোয়াও।"- একটা খোলা উঠান মানে — "এখানে সবাইকে স্বাগত।"বিল্ডিং কথা বলে_ এটা মিথ্যা না।
কিন্তু এখানেই একটা বিপদ লুকিয়ে আছে।১৯৬০ এবং ৭০-এর দশকের কিছু তাত্ত্বিক (Umberto Eco, Charles Jencks, Ferdinand de Saussure, Charles Sanders Peirce, George Baird) বললেন – অনেকটা এই কথা_"Buildings do not merely speak - they are a complete language in themselves."বিল্ডিঙের প্রতিটা উপাদান একটা sign - প্রতিটা sign একটা অর্থ বহন করে।সেই অর্থগুলো মিলে একটা text তৈরি হয় - সেই text পড়তে হয় – স্থাপত্যকে বুঝতে হলে।এই থিওরির নাম — “Architectural Semiology”“The study of buildings as systems of signs, symbols, and meanings, exploring how built forms communicate cultural, functional, and emotional messages”শুনতে সুন্দর — কিন্তু সমস্যা এখানেই।
Inception দেখেছেন?সেই সিনেমায় Cobb স্বপ্নের মধ্যে ঢোকে। স্বপ্নের মধ্যে আরেকটা স্বপ্ন। তারপর আরো গভীরে।প্রতিটা স্তরে বাস্তবতা একটু বদলে যায়। কোনটা আসল বোঝা যায় না।এই অবস্থাকে বলে — Infinite regress। অসীম গভীরতায় হারিয়ে যাওয়া।Architectural Semiology-তেও ঠিক এই সমস্যা।একটা বিল্ডিংয়ের প্রতিটা উপাদান একটা sign।কিন্তু সেই sign-টা কার কাছে কী অর্থ বহন করে? বাংলাদেশের একজন মানুষের কাছে লাল রঙ মানে শক্তি।জাপানে লাল রঙ মানে সৌভাগ্য।পশ্চিমে লাল রঙ মানে বিপদ।কোনটা সঠিক? - তিনটাই। …এবং তিনটাই ভুল। কারণ sign-এর অর্থ মানুষের দেখার উপর নির্ভর করে।বিল্ডিং কিছু বলছে – খুব ভালো কথা_কিন্তু কে শুনছে তার উপর নির্ভর করে - কী শুনছে।
Semiology এখানে একটা বড় ভুল করে।সেই ভুলটা হলো — বিল্ডিংকে শুধু representation মনে করা। শুধু প্রতীক। শুধু sign।কিন্তু বিল্ডিং শুধু বলে না। বিল্ডিং করে। কিছু একটা করে।পার্থক্যটা বিশাল।একটা উদাহরণ দিই - ধরুন একটা হাসপাতাল_Semiology বলবে —- এই হাসপাতালের সাদা রঙ পরিচ্ছন্নতার sign।- বড় প্রবেশদ্বার গুরুত্বের sign।- সারি সারি জানালা স্বচ্ছতার sign।ঠিক আছে। সব sign। সব অর্থ।কিন্তু সেই হাসপাতালে ঢুকলে দেখা যাচ্ছে —- ইমার্জেন্সি থেকে অপারেশন থিয়েটার অনেক দূর।- রোগীর বিছানা থেকে নার্সের station দেখা যায় না।- ডাক্তারের কাছে পৌঁছাতে পাঁচটা করিডোর পার হতে হয়। এই হাসপাতালের signs সুন্দর। কিন্তু configuration ভুল।মানুষ ভুগছে - কারণ sign ঠিক থাকলেও, Space ঠিক ছিল না।Sign দিয়ে মানুষ বাঁচে না - Space এর সঠিক Orientation এ বাঁচে।
বাংলাদেশের একটা চেনা উদাহরণ দেই – রিলেট করতে পারবেন_ঢাকায় অনেক মসজিদ আছে যেগুলো দেখতে চমৎকার।বড় গম্বুজ। উঁচু মিনার। কালিগ্রাফিক চকচকে টাইলস। রঙিন কাচ।প্রতিটা উপাদানকে দিয়ে ধর্মীয় প্রচুর sign বহন করানো হচ্ছে,ধর্মীয় সব অনুভুতি sign আকারে ভরা, কিন্তু ভেতরে ঢুকলে একটা জিনিস পাবেন না_তা হল - প্রশান্তি।কারণ সেই মসজিদের ভেতরের স্থানটা মানুষকে থামতে বলছে না।Sign আছে। স্থান নেই। এবার পুরনো মসজিদে যান।ষাট গম্বুজ মসজিদ। বাঘা মসজিদ।সেখানে চকচকে টাইলস নেই। রঙিন কাচ নেই।কিন্তু ভেতরে ঢুকলেই দেখবেন নিঃশব্দ হয়ে যেতে হয়।কারণ সেই স্থানটা মানুষকে বলছে —"এখানে থামো। এখানে শান্ত হও।"এই স্থানটাই এখানে আসল কাজ করছে।
বাংলাদেশে প্রতি বছর স্থাপত্য পুরস্কার দেওয়া হয়।বিজয়ী বিল্ডিংগুলো দেখলে একটা জিনিস মিল থাকে —সব দেখতে সুন্দর। সব ছবিতে ভালো ওঠে।কিন্তু সেই বিল্ডিংগুলোতে মানুষ কেমন থাকে — সেটা কেউ জিজ্ঞেস করে না।কারণ পুরস্কার দেওয়া হয় ছবি দেখে। বিল্ডিং অনুভব করে না।Sign পুরস্কার পায়। Space পুরস্কার পায় না।কিন্তু মানুষ বাস করে স্থানে। ছবিতে না।________________________________________
একটা বিল্ডিং যখন শুধু sign হয়ে যায় — তখন বিপজ্জনক একটা ঘটনা ঘটে যায়বিল্ডিং তার আসল কাজ ভুলে যায়।আসল কাজ —- মানুষের জীবন গঠন করা।- মানুষকে একত্রিত করা।- মানুষকে আলাদা করা।- মানুষের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করা।এই কাজগুলো sign দিয়ে হয় না। স্থানের গঠন দিয়ে হয়।হয় Configuration দিয়ে, হয় Orientation দিয়ে।
১৯৭০ এবং ৮০-র দশকে Modernism-এর বিরুদ্ধে Postmodern স্থাপত্য এলো।Postmodern স্থপতিরা বললেন —"Modernism অনেক সাদামাটা। আমরা বিল্ডিংয়ে অর্থ ফিরিয়ে আনব। ইতিহাস ফিরিয়ে আনব। sign ফিরিয়ে আনব।"তারা বানালেন কলামওয়ালা বিল্ডিং। Pediment ওয়ালা বিল্ডিং। রঙিন বিল্ডিং। নাটকীয় বিল্ডিং।দেখতে মজার। কিন্তু ভেতরে? ভেতরে — সেই একই সমস্যা।Sign বদলেছে। Configuration বদলায়নি।মানুষ এখনো একই অস্বস্তিতেই বাস করছে - just বাইরে থেকে একটু so called আধুনিক দেখাচ্ছে।
তাহলে বিল্ডিং কি আদৌ কিছু বলে না?বলে -কিন্তু যা বলে তা sign দিয়ে বলে না।বলে তার গঠন দিয়ে। তার configuration দিয়ে।মানুষ কোথায় যাবে, কোথায় থামবে, কোথায় মিলবে সেটা দিয়ে বলে।এই ভাষাটার কোনো অভিধান নেই।কিন্তু প্রতিটা মানুষ এই ভাষা পড়তে পারে — জেনে বা না জেনেই।
আমি একজন স্থপতি হিসেবে বিশ্বাস করি —স্থাপত্য ভাষার মতো কাজ করে না, আবার স্থাপত্য চুপও থাকতে পারে না।স্থাপত্য সবসময় কিছু করছে_- মানুষকে কাছে আনছে অথবা দূরে ঠেলছে।- ক্ষমতা দিচ্ছে অথবা ক্ষমতাহীন করছে।- স্বাগত জানাচ্ছে অথবা বিদায় দিচ্ছে।এটা sign-এর কাজ না - sign এটা পারে না। এটা স্থানের কাজ।Sign পড়তে হয়। Space অনুভব করতে হয়।এবং অনুভব, পড়ার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।

