"My personal take on architecture. Exploring how we live, breathe, and connect within the walls we build."

How I see it

architecture 101

1.2 Definition


স্থান নিরপেক্ষ না। স্থান সবসময় কিছু বলছে।

14 12

কপি বিল্ডিং কখনো সুন্দর হয় না।কারণ সে জানে না সে কোথায় আছে।_এবং যে জানে না সে কোথায় — সে কোথাওই নেই। অথচ এই বিষয়টা একাডেমী তেই ঠিক করে দেয়ার কথা ছিলবাংলাদেশের স্থাপত্যে তোমরা পাঁচ বছর পড়ানো হয়- Zaha Hadid-এর বাঁকানো বিল্ডিং শেখানো হয়,- Frank Gehry-র titanium facade শেখানো হয়,- Rem Koolhaas-এর তত্ত্ব শেখানো হয়,কিন্তু বোঝানো হয় না -পুরান ঢাকার গলি কেন হাজার বছর ধরে কাজ করছেনারায়ণগঞ্জের পাটের গুদাম কীভাবে বাতাস চলাচলের সমস্যা সমাধান করেছিলসুন্দরবনের পাশের গ্রামের বাড়ি কীভাবে বন্যার সাথে বাঁচতে শিখেছেবিদেশের বিখ্যাত স্থাপত্য শেখানো হয়, কিন্তু নিজের শহর যেটা বলতে চায় তা শোনার ভাষা শেখানো হয়না।এরপর তারা বের হয় — Pinterest Inspired বিল্ডিং বানাতে। নিজের শহরের প্রাণ না বুঝে। শেখা আর আইডিয়া কপি বা ধার করার পার্থক্যটা এখানেই।শেখা নিজেকে সমৃদ্ধ করে।আর কপি - Paste করার সময় নিজেকেই মুছে দেয়।

14 11

এই "ধার করা" ব্যাপারটা বুঝি।স্থাপত্যের ইতিহাসে প্রতিটা যুগে একটা নতুন ধার নেওয়া হয়েছে।এক যুগে বলা হলো — "স্থাপত্য মানে প্রকৌশল। যা কাজ করে তাই সুন্দর।" Form follows function।পরের যুগে বলা হলো — "স্থাপত্য মানে মনোবিজ্ঞান। মানুষের অনুভূতি বুঝতে হবে।"তারপর বলা হলো — "স্থাপত্য মানে সেমিওলজি। বিল্ডিং একটা ভাষা। প্রতিটা উপাদান একটা sign।"এখন বলা হচ্ছে — "স্থাপত্য মানে পরিবেশ। সবুজ বিল্ডিং। টেকসই ডিজাইন। Carbon footprint কমাও।"প্রতিটা কথাই ঠিক। কিন্তু প্রতিটাই বাইরে থেকে আনা।নিজের ভেতর থেকে তৈরি না।

14 14

কিন্তু আজকের স্থপতিরা?অনেকে নিজের প্রজেক্ট সম্পর্কে বলেন — "এই বিল্ডিংটা প্রকৃতির সাথে সংলাপ।" "এটা ঐতিহ্যের পুনর্ব্যাখ্যা।" "এটা নগর জীবনের কাব্যিক প্রতিফলন।"এই কথাগুলো কি মিথ্যা? না।কিন্তু এই কথাগুলো কি স্থাপত্যের নিজের ভাষা? না।এগুলো সাহিত্যের ভাষা। দর্শনের ভাষা। কবিতার ভাষা।স্থাপত্যের নিজের কথা বলার ক্ষমতা নেই বলেই অন্যের ভাষায় কথা বলতে হচ্ছে।একটা মানুষ যদি নিজের ভাষায় কথা বলতে না পারে — তাকে আমরা বলি — সে তার পরিচয় হারিয়েছে।স্থাপত্যেরও একই সমস্যা। কিন্তু কেন এই সমস্যা?কারণ স্থাপত্যের আসল বিষয় — স্থানের সম্পর্ক — চোখে দেখা যায় না। ছবিতে ধরা যায় না। শব্দে বলা যায় না।একটা বিল্ডিংয়ের ছবি তুললে কী দেখা যায়? বাইরেটা। রং। আকার।কিন্তু ভেতরে ঘরগুলো কীভাবে যুক্ত — কোন ঘর থেকে কোন ঘরে যাওয়া যায় — কোথায় মানুষ স্বাভাবিকভাবে থামে — এগুলো ছবিতে ধরা যায় না।তাই এগুলো নিয়ে কথা হয় না। তাই এগুলো নিয়ে ভাবা হয় না। তাই এগুলো নিয়ে কাজ হয় না।

14 13

এর ফলে কী হয়?স্থপতিরা সেটা নিয়ে কাজ করেন যেটা দেখা যায়। যেটা ছবিতে ওঠে। যেটা ক্লায়েন্টকে দেখানো যায়।আর যেটা দেখা যায় না — স্থানের গড়ন, সম্পর্কের জাল — সেটা ঈশ্বরের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়।এবং মানুষ সেই অদৃশ্য ব্যর্থতার মধ্যে প্রতিদিন বাস করে। কোনো অভিযোগ করতে পারে না। কারণ সমস্যাটা বলতেই পারে না।অনুভব করে। কিন্তু ভাষা নেই।________________________________________ইতিহাসে আরেকটু যাই।মুঘল আমলের স্থপতিরা কোনো "স্থাপত্য তত্ত্ব" লেখেননি। কোনো manifesto দেননি।কিন্তু তাজমহলের ভেতরে ঢুকলে কেউ কথা বলে না। কোনো সাইনবোর্ড লাগানো নেই — "এখানে নীরব থাকুন।"তবু সবাই চুপ করে যায়।কারণ সেই স্থানটা বলছে। স্থানের নিজের ভাষায়।সেই স্থপতিরা হয়তো ব্যাকরণ জানতেন না। কিন্তু ভাষাটা জানতেন।আমরা এখন ব্যাকরণ পড়ছি। কিন্তু ভাষাটা ভুলে যাচ্ছি।

14 9

আমি একজন স্থপতি হিসেবে বিশ্বাস করি —স্থাপত্যের নিজের একটা ভাষা আছে। সেই ভাষা কথায় না। সেই ভাষা স্থানে। সম্পর্কে। মানুষের চলাফেরায়। মিলনে। বিচ্ছেদে।সেই ভাষাটা শেখা দরকার। সেই ভাষায় কথা বলা দরকার। সেই ভাষায় সমালোচনা করা দরকার।কারণ যে ভাষায় কথা বলতে পারি না — সেই ভাষায় ভুল করলেও ধরতে পারি না।এবং সেই ভুলের মধ্যে কোটি মানুষ বাস করছে। প্রতিদিন।

14 6

একটা গল্প বলি।১৯৬০-এর দশক। ইউরোপ আর আমেরিকায় বড় বড় পরিকল্পনাকারীরা বসেছেন।টেবিলে বড় মানচিত্র। হাতে বড় পেন্সিল। মাথায় বড় স্বপ্ন।"আমরা নতুন শহর বানাব। বিজ্ঞানসম্মত। পরিচ্ছন্ন। আধুনিক। দরিদ্র মানুষদের জন্য সুন্দর বাসস্থান।"তারা বানালেন।বিশাল বিশাল housing estate। সারি সারি অ্যাপার্টমেন্ট। সবুজ জায়গা। খেলার মাঠ। সব আছে।দশ বছর পরে দেখা গেল — এই এলাকাগুলোই হয়ে উঠল পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গা।মাদক। অপরাধ। সহিংসতা। একাকীত্ব।পরিকল্পনাকারীরা বললেন — "মানুষের সমস্যা। আমাদের ডিজাইনের সমস্যা না।"কিন্তু ডিজাইনেরই সমস্যা ছিল। এবং সেই সমস্যার শিকড় ছিল একটা মৌলিক ভুলে।

14 5

সেই ভুলটা কী?সমাজবিজ্ঞানীরা এবং পরিকল্পনাকারীরা একটা বিভাজন মেনে নিয়েছিলেন।এক দিকে — স্থান। ভৌত। বস্তুগত। পরিমাপযোগ্য। দেওয়াল। রাস্তা। দূরত্ব।অন্য দিকে — সমাজ। বিমূর্ত। অদৃশ্য। পরিমাপ করা কঠিন। সম্পর্ক। মূল্যবোধ। সংস্কৃতি।দুটো আলাদা। একটার সাথে আরেকটার সম্পর্ক আছে। কিন্তু দুটো আলাদা।এই বিভাজনটাই বিপজ্জনক।________________________________________কেন?কারণ এই বিভাজন মেনে নিলে স্থান থেকে সামাজিক বিষয়বস্তু বাদ চলে যায়। আর সমাজ থেকে স্থানিক মাত্রা বাদ চলে যায়।স্থান হয়ে যায় — নিরপেক্ষ পটভূমি। মাত্র একটা খালি জায়গা। সমাজ সেখানে ঘটে।কিন্তু স্থান কি আসলেই নিরপেক্ষ?

14 4

১৯৬০-এর সেই housing estate-গুলোতে কী ছিল না?Forum ছিল না। চায়ের দোকান ছিল না। মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরার জায়গা ছিল না।সবুজ মাঠ ছিল। কিন্তু কেউ সেই মাঠে যেত না। কারণ মাঠে গেলে অপরিচিত মানুষের সাথে দেখা হয়। এবং অপরিচিত মানুষ মানেই বিপদ।কেন বিপদ?কারণ কেউ কাউকে চেনে না। কারণ মিলনের কোনো জায়গা নেই। কারণ স্থানটা মানুষকে একত্রিত করেনি। আলাদা করেছে।পরিকল্পনাকারীরা ভেবেছিলেন — "মানুষ আছে। জায়গা আছে। সমাজ হবে।"কিন্তু সমাজ এভাবে হয় না।সমাজ হয় স্থানের মধ্য দিয়ে। স্থান যদি মানুষকে আলাদা করে — সমাজও আলাদা হয়। এই ভুলটা কিন্তু শুধু ইউরোপের না।ঢাকার দিকে তাকান।১৯৮০-র দশকে সরকার বড় বড় আবাসিক প্রকল্প করেছে। মিরপুর। রায়েরবাজার। মোহাম্মদপুর।সারি সারি ব্লক। নম্বর দেওয়া। Block A। Block B। Block C।সেখানে মানুষ আছে। কিন্তু পাড়া নেই।কারণ পাড়া তৈরি হয় স্থানের মধ্য দিয়ে। মানুষ মিলবে কোথায়? কথা হবে কোথায়? চেনা হবে কোথায়?সেই জায়গাটা কেউ বানায়নি। তাই পাড়া হয়নি। শুধু block হয়েছে।বাংলাদেশে যখন কোনো আবাসিক এলাকায় অপরাধ বাড়ে — পত্রিকায় খবর আসে। বিশেষজ্ঞরা বলেন —"এলাকার মানুষের মানসিকতার সমস্যা।" "পুলিশ টহল বাড়াতে হবে।" "সিসি ক্যামেরা লাগাতে হবে।"কেউ বলে না — "এই এলাকার ডিজাইনটাই ভুল। মানুষকে একে অপর থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে। তাই কেউ কাউকে চেনে না। তাই অপরাধ হয়।"সিসি ক্যামেরায় অপরাধ কমে না। পরিচয়ে অপরাধ কমে। পরিচয় হয় স্থানে।কিন্তু এই কথাটা বললে ক্যামেরা কোম্পানির ব্যবসা কমে। তাই কথাটা বলা হয় না।

S2 1

মূল সমস্যায় ফিরি।স্থান আর সমাজকে আলাদা করা হলে দুটোই দুর্বল হয়।স্থান হয়ে যায় — শুধু ভৌত জিনিস। মাপা যায়। ছবি তোলা যায়। কিন্তু বোঝা যায় না।সমাজ হয়ে যায় — শুধু বিমূর্ত ধারণা। কথায় বলা যায়। কিন্তু ধরা যায় না।এই দুটো আলাদা করে রাখলে কোনো তত্ত্বই কাজ করে না।কারণ বাস্তবে স্থান আর সমাজ আলাদা না।স্থানের ভেতরেই সমাজ আছে। সমাজের ভেতরেই স্থান আছে।________________________________________ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উদাহরণ দিই।আথেন্সের Agora। খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দী।এটা শুধু একটা খোলা চত্বর ছিল না।এখানে বাজার বসত। এখানে দার্শনিকরা তর্ক করতেন। এখানে নাগরিকরা ভোট দিত। এখানে বিচার হতো।সক্রেটিস এই Agora-তেই কথা বলতেন। প্লেটো এখানেই শিখেছিলেন।গণতন্ত্রের জন্ম হয়েছিল একটা স্থানের মধ্য দিয়ে।স্থান ছাড়া গণতন্ত্র ছিল না। গণতন্ত্র ছাড়া সেই স্থান ছিল না।দুটো একসাথে। দুটো আলাদা করা যায় না।__________________________________

S2 3

________________________________________আমি একজন স্থপতি হিসেবে বিশ্বাস করি —স্থান নিরপেক্ষ না। স্থান সবসময় কিছু বলছে। সবসময় কিছু করছে।যে সমাজ এটা বোঝে — সে স্থান বানায় সমাজের জন্য।যে সমাজ এটা বোঝে না — সে স্থান বানায় ছবির জন্য। বিজ্ঞাপনের জন্য। পুরস্কারের জন্য।এবং সেই ছবির বিল্ডিংয়ে কোটি মানুষ একা হয়ে বাস করে।স্থান আর সমাজকে আলাদা করার এটাই পরিণতি।

S2 4

________________________________________পরের পোস্টে আসছি আরো বিতর্কিত একটা তত্ত্ব নিয়ে —"মানুষ জন্মগতভাবে এলাকা দাবি করে।" বিজ্ঞানীরা এটা বিশ্বাস করতেন। স্থপতিরাও করতেন। এবং এই বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে লক্ষ লক্ষ মানুষের বাড়ি বানানো হয়েছে। তত্ত্বটা ভুল ছিল। কিন্তু বাড়িগুলো থেকে গেছে।