"My personal take on architecture. Exploring how we live, breathe, and connect within the walls we build."
How I see it
architecture 101
1.3 Definition
নকল করলেই কি স্থাপত্য হয়?"
আপনার মাতৃভাষা বাংলা। প্রতিদিন বাংলায় কথা বলেন। ভুল হয় না। অনর্গল বলেন।এখন কেউ জিজ্ঞেস করলো — "বাংলায় কর্তা আর কর্ম কীভাবে সাজাতে হয়? ক্রিয়ার আগে কী আসে? পরে কী? বিভক্তির নিয়মটা ঠিক কী?"আপনি থেমে গেলেন।ব্যাকরণটা জানেন। কিন্তু বলতে পারছেন না। স্থানও ঠিক এরকম।আমরা সবাই স্থান ব্যবহার করি। প্রতিদিন। অনর্গল।কোন ঘরে ঢুকলে স্বাচ্ছন্দ্য লাগে। কোন রাস্তায় হাঁটলে ভালো লাগে। কোন বাড়িতে গেলে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে।কিন্তু কেন — বলতে পারি না।আমরা স্থানের ব্যাকরণ জানি। কিন্তু সেই ব্যাকরণ নিয়ে কথা বলতে পারি না।
এখানেই সমস্যাটা শুরু।স্থাপত্যকে নিয়ে কথা বলতে হবে। সমালোচনা করতে হবে। বিচার করতে হবে। ভুল ধরতে হবে।কিন্তু আসল জিনিসটা — স্থানের সম্পর্ক, কনফিগারেশন, গভীরতা — এগুলো নিয়ে কথা বলা কঠিন।তাই সহজ পথে যাওয়া হয়।রং নিয়ে কথা বলা হয়। চেহারা নিয়ে কথা বলা হয়। ছবি তুলে দেখানো হয়।এবং সবচেয়ে বেশি — অন্য কোথাও থেকে নকল করা হয়। "নকল করলেই কি স্থাপত্য হয়?"ঢাকার বসুন্ধরা, গুলশান বা বনানীতে যান। যেকোনো নতুন অ্যাপার্টমেন্ট বা ল্যান্ড-শেয়ার প্রজেক্ট বিল্ডিংয়ের সামনে দাঁড়ান।- চোখ বন্ধ করুন। এই বিল্ডিংটা কোন দেশে আছে? - চোখ খুলুন। উত্তর পাবেন না।এই বিল্ডিং হতে পারে দুবাই। হতে পারে কুয়ালালামপুর। হতে পারে সিঙ্গাপুর।বাংলাদেশে আছে — এটা বোঝার কোনো উপায় নেই।এই বিল্ডিংয়ে এই মাটির গল্প নেই। এই আলোর কথা নেই। এই মানুষের ছায়া নেই।কেউ একজন বিদেশে গিয়েছিলেন (অথবা Worst case scenario - Pinterest / Net)। একটা বিল্ডিং দেখে পছন্দ হয়েছিল। ফিরে এসে বলেছিলেন — "বানাও বিল্ডিং।"বানানো হয়েছে।
উত্তর দেওয়ার আগে একটা গল্প বলি।বাংলাদেশে একটা বিশ্ববিদ্যালয় আছে — যেখানে ক্যাম্পাসের মাঝখানে একটা বড় খোলা মাঠ আছে। চারদিকে বিভিন্ন বিভাগের ভবন।এই মাঠটা পরিকল্পনায় ছিল শুধু "সবুজ এলাকা"। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে দেখা যাচ্ছে —- এই মাঠেই সব আড্ডা হয়।- এই মাঠেই বন্ধুত্ব তৈরি হয়।- এই মাঠেই আন্দোলন শুরু হয়।- এই মাঠেই প্রেম হয়, ব্রেকাপ ও।কারো পরিকল্পনায় ছিল না। কিন্তু মাঠটার অবস্থান এমন ছিল — সব পথ সেখানে এসে মিলেছে। সেখানে না গিয়ে উপায় নেই।মাঠটা মানুষকে টেনেছে। মানুষ টেনে যায়নি। এটাই দ্বিতীয় অস্তিত্বের শক্তি।
নকল আর অনুপ্রাণিত হওয়া এক জিনিস না।পৃথিবীর সেরা স্থপতিরা অন্যদের কাছ থেকে শেখেন।কিন্তু শিখে নিজের জায়গার কথা ভাবেন। 🇯🇵 জাপানের স্থপতিরা Le Corbusier পড়েছেন। কিন্তু জাপানি বাড়ি বানিয়েছেন। জাপানি আলোয়। জাপানি নীরবতায়।🇮🇳 ভারতের Charles Correa Modernism শিখেছেন। কিন্তু আহমেদাবাদের গরমের কথা ভেবে ছায়ার স্থাপত্য বানিয়েছেন। তারা শিখেছেন। কপি করেননি।_শেখা মানে নিজের হয়ে যাওয়া।কপি মানে অন্যেরই থেকে যাওয়া।


মুঘল আমলে বাংলার স্থাপত্য ছিল নিজের।ষাট গম্বুজ মসজিদ। লালবাগ কেল্লা। সোনারগাঁয়ের পুরনো বাড়ি।এই বিল্ডিংগুলো দেখলে বোঝা যায় — এগুলো বাংলার।এখানকার আর্দ্রতার কথা আছে। এখানকার বৃষ্টির কথা আছে। এখানকার নদীর কথা আছে। এখানকার মানুষের জীবনযাপনের কথা আছে। মুঘলরা দিল্লি থেকে এসেছিলেন। কিন্তু এই মাটির সাথে কথা বলেছিলেন।আমরা নিজের মাটিতে জন্মেছি। কিন্তু অন্যের মাটির ভাষায় বিল্ডিং বানাচ্ছি।
Inception দেখেছেন? ...Christopher Nolanসেই সিনেমায় Cobb স্বপ্নের ভেতরে স্বপ্ন তৈরি করেন।কিন্তু সবচেয়ে বিপজ্জনক কাজটা কী ছিল?"Extraction" না। "Inception" না।সবচেয়ে বিপজ্জনক ছিল — "Forgery।"অন্যের চেহারা নিয়ে অন্যের মতো আচরণ করা।কারণ Forgery-তে নিজের পরিচয় হারিয়ে যায়। ধীরে ধীরে। অজান্তে। বাংলাদেশের স্থাপত্যও এই Forgery-র মধ্যে আছে।দুবাইয়ের চেহারা।সিঙ্গাপুরের ভাষা।কুয়ালালামপুরের কণ্ঠস্বর।- নিজের পরিচয় কোথায়?
এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নেই। কারো কাছে নেই।- সেই উত্তর এই মাটিতে আছে।- এই মানুষের মধ্যে আছে।- এই জীবনযাপনের মধ্যে আছে।- পুরান ঢাকার গলিতে আছে।- গ্রামের উঠানে আছে।- নদীর ধারের বাড়িতে আছে। এই উত্তর খুঁজতে হবে - বিদেশে নয়। নিজের মাটিতে।কোনো স্থাপত্য সুন্দর হতে পারে শুধু তখনইযখন সে জানে সে কোথায় আছে।
দুবাইয়ের কাচের বিল্ডিং দুবাইয়ের আবহাওয়ার জন্য। সেখানে বাইরে বের হওয়া যায় না। তাই ভেতরে এসি থাকলেই হলো।ঢাকায় সেই একই বিল্ডিং — ঢাকার আর্দ্রতা। ঢাকার গরম। ঢাকার বৃষ্টি।কাচের দেওয়াল সব তাপ ভেতরে আটকে রাখছে। এসি সারাদিন চলছে। বিদ্যুৎ বিল আকাশছোঁয়া।শুধু কপি করা হয়েছে। এই মাটির কথা ভাবা হয়নি।_নকলের দাম শুধু নান্দনিকতায় না। বিদ্যুৎ বিলেও।


