"My personal take on architecture. Exploring how we live, breathe, and connect within the walls we build."
How I see it
architecture 101
1.2 Definition
থাকতে চাওয়া VS থাকতে বাধ্য হওয়া
একটা theory আছে।বলা হয় — মানুষ জন্মগতভাবে territorial।মানে — মানুষ স্বভাবতই নিজের এলাকা দাবি করে। নিজের জায়গা চিহ্নিত করে। অপরিচিতকে দূরে রাখে।এটাই নাকি মানুষের প্রকৃতি।এই theory-র নাম Territoriality। এবং এই theory-র উপর ভিত্তি করে পৃথিবীর অনেক দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষের বাড়ি বানানো হয়েছে।________________________________________কিন্তু একটু ভাবুন।যদি মানুষ সত্যিই জন্মগতভাবে territorial হয় — তাহলে পৃথিবীর সব সমাজে একই ধরনের স্থানিক গঠন থাকার কথা।কিন্তু আছে কি?
________________________________________আফ্রিকার Ghana-র কথা বলি।সেখানে একটা ছোট অঞ্চলে ছয়টা আলাদা সমাজ আছে।একই আবহাওয়া। একই মাটি। একই প্রযুক্তি।কিন্তু বাড়ির গড়ন সম্পূর্ণ আলাদা।একটা সমাজে বাড়ি বর্গাকার। ঘন। প্রায় শহরের মতো।আরেকটা সমাজে বাড়ি গোলাকার। এতটাই ছড়ানো যে একটা পরিবার কোথায় শেষ হয় আরেকটা কোথায় শুরু — বোঝা যায় না।একই জায়গা। একই মানুষ। একই সময়। কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা স্থানিক দর্শন।যদি Territoriality সত্যি হতো — সবার বাড়ি একরকম হতো।হয়নি।________________________________________Game of Thrones মনে আছে?Dothraki-দের কথা ভাবুন।তারা কোনো দেওয়াল বানায় না। কোনো শহর বানায় না। কোনো এলাকা চিহ্নিত করে না।তারা চলতে থাকে। খোলা মাঠ তাদের ঘর। আকাশ তাদের ছাদ।আর Lannister-রা?দেওয়ালের পর দেওয়াল। দুর্গের পর দুর্গ। প্রতিটা ইঞ্চি চিহ্নিত। প্রতিটা সীমানা রক্ষিত।দুটো সমাজ। দুটো সম্পূর্ণ আলাদা স্থানিক দর্শন।কোনটা "স্বাভাবিক"? দুটোই।কারণ territorial হওয়া মানুষের প্রকৃতি না। এটা সমাজের পছন্দ।
________________________________________এবার বাস্তবে আসি।Territoriality theory-র সবচেয়ে বিখ্যাত প্রয়োগ হয়েছিল ১৯৭০-এর দশকে।Oscar Newman নামে একজন স্থপতি বললেন — "Defensible Space।"মানে — প্রতিটা পরিবারের নিজস্ব territory থাকতে হবে। নিজের এলাকা। নিজের পরিচয়। যেটা তারা রক্ষা করবে।এই theory-র উপর ভিত্তি করে আমেরিকায়, ইউরোপে হাজার হাজার housing project ডিজাইন হলো।প্রতিটা পরিবারকে দেওয়া হলো আলাদা জায়গা। আলাদা প্রবেশপথ। আলাদা সীমানা।মানুষ যেন নিজের territory অনুভব করতে পারে।________________________________________ফলাফল কী হলো?মানুষ আরো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।কারণ territory মানে সীমানা। সীমানা মানে আলাদা। আলাদা মানে অপরিচিত। অপরিচিত মানে ভয়। ভয় মানে অপরাধ।Theory উল্টো কাজ করল।
________________________________________কিন্তু আরো মজার কথা আছে।Territoriality theory বলে — মানুষ নিজের এলাকা রক্ষা করে।কিন্তু anthropology বলছে — পৃথিবীর অনেক সমাজে এমন গোষ্ঠী আছে যারা ইচ্ছে করে স্থানিক সীমানা ভাঙে।যাদের বলা হয় "Sodality।"এরা বিভিন্ন পরিবার, বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসে। একসাথে অনুষ্ঠান করে। একসাথে কাজ করে। একসাথে থাকে।কারণ এদের উদ্দেশ্যই হলো — স্থানিক বিচ্ছেদ পার করে একটা বড় সম্পর্ক তৈরি করা।Territory ভাঙলেই সমাজ বড় হয়। Territory রক্ষা করলে সমাজ ছোট হয়।________________________________________বাংলাদেশে এই উদাহরণ আছে।বাউল সংগীতের কথা ভাবুন।বাউলরা ঘর ছাড়ে। গ্রাম ছাড়ে। জাত ছাড়ে। এলাকা ছাড়ে।পথে পথে ঘোরে। যেখানে মানুষ সেখানে গান।তাদের কোনো territory নেই। তাই তারা সবার।লালন ফকির কোনো এলাকার ছিলেন না। তাই তিনি পুরো বাংলার।Territory ছাড়লে মানুষ বড় হয়।
তাহলে Territoriality theory কেন এত জনপ্রিয় হলো?কারণ এটা সুবিধাজনক।রাষ্ট্রের জন্য সুবিধাজনক — মানুষকে আলাদা করে রাখা সহজ।ডেভেলপারের জন্য সুবিধাজনক — আলাদা আলাদা unit বেচা সহজ।নিরাপত্তা শিল্পের জন্য সুবিধাজনক — প্রতিটা territory-তে gate, guard, camera।সবার ব্যবসা হয়। শুধু মানুষ একা হয়ে যায়।একটা theory যখন এত মানুষের ব্যবসার কাজে লাগে — সেই theory সহজে মরে না। ভুল প্রমাণ হলেও মরে না।________________________________________এখানে একটু থামি।বাংলাদেশের নতুন আবাসিক প্রকল্পগুলো দেখুন।"Gated community।" "নিরাপদ আবাসন।" "নিজস্ব এলাকা।" "বাইরের মানুষ ঢুকতে পারবে না।"এটাই বিজ্ঞাপনের ভাষা।কিন্তু বাইরের মানুষ না ঢুকলে আপনি কি সত্যিই নিরাপদ?নাকি আরো বেশি একা?গবেষণা বলছে — যে এলাকায় বেশি মানুষ চলাচল করে সেই এলাকায় অপরাধ কম।কারণ মানুষই মানুষকে দেখে। মানুষই মানুষকে রক্ষা করে।Gate আর Camera মানুষকে রক্ষা করে না। মানুষই মানুষকে রক্ষা করে।কিন্তু gate বেচা যায়। মানুষের সম্পর্ক বেচা যায় না।তাই gate-ই বিক্রি হয়।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উদাহরণ।মধ্যযুগের ইউরোপের শহরগুলো।এই শহরগুলোতে কোনো gated community ছিল না। সবাই একসাথে রাস্তায় ছিল। ধনী। গরিব। ব্যবসায়ী। কারিগর।সবাই একই রাস্তায়। সবাই একে অপরকে দেখছে। সবাই একে অপরকে চিনছে।এই শহরগুলো ছিল অনেক বেশি নিরাপদ আমাদের আধুনিক gated community-র চেয়ে।কারণ territory ছিল না। সম্পর্ক ছিল।________________________________________আমি একজন স্থপতি হিসেবে বিশ্বাস করি —মানুষ জন্মগতভাবে territorial না। মানুষ জন্মগতভাবে সামাজিক।মানুষ এলাকা চায় না। মানুষ সম্পর্ক চায়।স্থাপত্যের কাজ সেই সম্পর্ক তৈরির সুযোগ দেওয়া। বাধা তৈরি করা না।Territory বানালে মানুষ আলাদা হয়। স্থান বানালে মানুষ একত্রিত হয়।এই পার্থক্যটা বুঝলে অনেক বড় বড় ভুল এড়ানো যায়।কিন্তু এই ভুলগুলো এড়ানোর চেয়ে gate বেচা অনেক বেশি লাভজনক।তাই ভুলগুলো চলতেই থাকে।
১৯৫৪ সাল। আমেরিকার St. Louis শহর।একটা বিশাল প্রকল্প শুরু হলো।নাম — Pruitt-Igoe।৩৩টা বিশাল অ্যাপার্টমেন্ট টাওয়ার। ২,৮৭০টা ফ্ল্যাট। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫,০০০ মানুষের বাসস্থান।ডিজাইন করেছেন বিখ্যাত স্থপতি Minoru Yamasaki। যিনি পরে World Trade Center-ও ডিজাইন করেছিলেন।পুরস্কার পেল। প্রশংসা পেল। পত্রিকায় ছবি ছাপা হলো।"এটাই ভবিষ্যতের শহর।"
১৯৭২ সাল। মাত্র ১৮ বছর পরে।সেই বিল্ডিংগুলো ভেঙে ফেলা হলো।ডিনামাইট দিয়ে।টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার হলো। পুরো আমেরিকা দেখল — কীভাবে একটা স্বপ্ন মাটিতে পড়ে গেল।________________________________________কেন ভেঙে ফেলতে হলো?কারণ কেউ থাকতে চায়নি।বিল্ডিং ছিল। ফ্ল্যাট ছিল। আলো ছিল। পানি ছিল।কিন্তু মানুষ পালিয়ে গেল।যারা থাকল — তারা থাকল কারণ যাওয়ার জায়গা ছিল না।আর তারা থাকল অপরাধের মধ্যে। সহিংসতার মধ্যে। একাকীত্বের মধ্যে।________________________________________কেন এই পরিণতি?কারণ বিল্ডিংটা মানুষের জন্য বানানো হয়নি।বানানো হয়েছিল একটা theory-র জন্য।"মানুষকে উঁচুতে রাখো। মাটি থেকে দূরে রাখো। প্রতিটা পরিবারকে আলাদা রাখো। নিচে সবুজ জায়গা রাখো।"সুন্দর theory। কাগজে সুন্দর। ছবিতে সুন্দর।কিন্তু মানুষের জীবনে বিপর্যয়।
কেন বিপর্যয়?কারণ মানুষ মাটিতে থাকে।মানুষ রাস্তায় থাকে। মানুষ মোড়ের চায়ের দোকানে থাকে। মানুষ পাশের বাড়ির দরজার সামনে থাকে।মানুষ সম্পর্কে থাকে।Pruitt-Igoe-তে সেই সম্পর্ক ছিল না।Lift corridor ছিল। কিন্তু সেই corridor-এ দাঁড়িয়ে কেউ কারো সাথে কথা বলত না।কারণ সেই corridor দাঁড়ানোর জন্য বানানো হয়নি। হাঁটার জন্য বানানো হয়েছিল।________________________________________Squid Game মনে আছে?সেই বিশাল compound-এর কথা ভাবুন।সবাই একসাথে আছে। একই ঘরে ঘুমায়। একই খাবার খায়।কিন্তু কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না।কারণ সেই জায়গাটা মানুষকে একত্রিত করেনি। মানুষকে প্রতিযোগী বানিয়েছে।স্থান মানুষকে মিলিয়েও দিতে পারে। আলাদাও করতে পারে। শত্রু বানাতেও পারে।Pruitt-Igoe-র মানুষগুলো Squid Game-এর মতো একসাথে ছিল কিন্তু একা ছিল।একসাথে থাকা আর একত্রিত হওয়া এক জিনিস না।
এবার বাংলাদেশে আসি।Pruitt-Igoe ভেঙে ফেলা হয়েছিল ১৯৭২ সালে।২০২৪ সালে বাংলাদেশে হাজার হাজার Pruitt-Igoe বানানো হচ্ছে।নামগুলো আলাদা। "Dream Garden।" "Happy Valley।" "Peaceful Residence।"নামে dream, happy, peaceful। বাস্তবে — একই corridor। একই lift। একই বিচ্ছিন্নতা।কেউ ইতিহাস পড়েনি। অথবা পড়েছে কিন্তু পরোয়া করেনি।কারণ বিল্ডিং বিক্রি হচ্ছে। মানুষ কিনছে। ব্যবসা চলছে।ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া লাভজনক না।________________________________________আরেকটু গভীরে যাই।Pruitt-Igoe ব্যর্থ হওয়ার পর স্থপতিরা, পরিকল্পনাকারীরা বললেন —"মানুষের সমস্যা। আমাদের ডিজাইন ঠিক ছিল।"এটা শুনলে একটু চেনা লাগছে না?বাংলাদেশেও প্রতিদিন শুনি — "রাস্তায় জ্যাম — মানুষ নিয়ম মানে না।" "বন্যায় ক্ষতি — মানুষ নিচুতে থাকে।" "পাড়ায় অপরাধ — মানুষের মানসিকতার সমস্যা।"কখনো বলা হয় না — "রাস্তাটা ভুলভাবে বানানো হয়েছে।" "drainage system নেই।" "পাড়ার ডিজাইনটাই অপরাধ তৈরি করছে।"সবসময় মানুষের দোষ। কখনো স্থানের দোষ না।কারণ স্থানের দোষ স্বীকার করলে যারা স্থান বানিয়েছেন তাদের দায়িত্ব নিতে হয়।দায়িত্ব নেওয়া কঠিন। মানুষকে দোষ দেওয়া সহজ।
ইতিহাসে ফিরি।Pruitt-Igoe ভাঙার দিনটাকে স্থাপত্য-সমালোচক Charles Jencks বলেছিলেন —"এই দিনটা ছিল আধুনিক স্থাপত্যের মৃত্যুর দিন।"কারণ আধুনিক স্থাপত্য বিশ্বাস করত — বিজ্ঞান দিয়ে মানুষের জীবন ঠিক করা যাবে। যুক্তি দিয়ে সমাজ বানানো যাবে। পরিকল্পনা দিয়ে মানুষকে সুখী করা যাবে।Pruitt-Igoe প্রমাণ করল — এটা সম্ভব না।মানুষের জীবন বিজ্ঞানের সূত্রে চলে না। মানুষের জীবন সম্পর্কে চলে। পরিচয়ে চলে। মিলনে চলে।সেই মিলনের জায়গা না থাকলে বিজ্ঞানের সূত্র দিয়ে বানানো বিল্ডিং ডিনামাইট দিয়ে ভাঙতে হয়।________________________________________তাহলে সমাধান কী?Pruitt-Igoe ভাঙার পর গবেষকরা খুঁজতে শুরু করলেন —কোন শহরে মানুষ সুখী? কোন পাড়া কাজ করছে? কোন স্থান মানুষকে একত্রিত করছে?উত্তর পেলেন।পুরনো শহরগুলোতে। মধ্যযুগের ইউরোপের রাস্তায়। পুরান ঢাকার গলিতে। মরক্কোর মদিনায়। ইস্তানবুলের পুরনো বাজারে।এই জায়গাগুলো কেউ ডিজাইন করেনি। বিজ্ঞান দিয়ে বানানো হয়নি।কিন্তু কাজ করছে। কারণ এখানে মানুষ মেলে। প্রতিদিন। অপরিচিতের সাথেও।
আমি একজন স্থপতি হিসেবে বিশ্বাস করি —স্থাপত্যের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা পুরস্কার না। ছবি না। বিজ্ঞাপন না।সবচেয়ে বড় পরীক্ষা — দশ বছর পরে মানুষ কি এখানে থাকতে চায়?Pruitt-Igoe সেই পরীক্ষায় ফেল করেছিল।এখন প্রশ্ন — আমরা যা বানাচ্ছি দশ বছর পরে মানুষ কি থাকতে চাইবে?নাকি শুধু থাকতে বাধ্য হবে?থাকতে চাওয়া আর থাকতে বাধ্য হওয়া — এই পার্থক্যটুকুই একটা বিল্ডিং আর একটা কারাগারের পার্থক্য।________________________________________পরের পোস্টে আসছি পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত আবিষ্কার নিয়ে —একটা মশার ঝাঁক আর একটা শহর একই নিয়মে চলে। কেউ পরিকল্পনা করেনি। তবু নকশা আছে। এই রহস্যটা বুঝলে স্থাপত্য সম্পর্কে আপনার পুরো ধারণা বদলে যাবে।
